টেকনাফে বিজিবির অভিযান, ছয় কোটি আটাত্তর লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

0
15

ফোর্সেস নিউজ : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অভিযানে ছয় কোটি আটাত্তর লক্ষ) টাকা মূল্যমানের দুই লক্ষ ছাব্বির হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ দমদমিয়া বিওপি’র টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, দমদমিয়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ ন্যাচারপার্ক বরাবর নাফ নদী হয়ে মিয়ানমার হতে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচার হতে পারে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে দমদমিয়া বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল বর্ণিত এলাকা বরাবর নাফ নদীতে টহলে গমন করে গোপনে অবস্থান গ্রহণ করে।

সন্ধ্যার দিকে টহলদল দমদমিয়া বিএসপি হতে আনুমানিক ২০০ মিটার উত্তরে ন্যাচারপার্ক বরাবর নাফ নদী দিয়ে ০৪-০৫ জন ব্যক্তিকে ০২ টি নৌকা নিয়ে মিয়ানমার হতে শূন্য রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে। টহলদল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরার জন্য অনতিবিলম্বে চ্যালেঞ্জ করে।

উল্লেখিত ব্যক্তিরা তৎক্ষণাৎ টহলদলকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এমতাবস্থায় টহল বোট নিয়ে নিরাপদ ও কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করতঃ টহলদলের কয়েকজন সদস্য সরকারী সম্পদ এবং নিজেদের জান ও মাল রক্ষার স্বার্থে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে।

বিজিবি’র পাল্টা গুলিবর্ষণে ভীত হয়ে সামনের নৌকায় থাকা ইয়াবা পাচারকারীরা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পিছনে অবস্থিত ইঞ্জিন চালিত নৌকায় স্থানান্তরিত হয়ে দ্রুত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলে যায়।

পরবর্তীতে টহলদল পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া উল্লেখিত নৌকাটি তল্লাশী করে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করে তার ভিতর হতে ছয় কোটি আটাত্তর লক্ষ টাকা মূল্যমানের দুই লক্ষ ছাব্বির হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সমর্থ হয়।

ইয়াবা পাচারকারীদের আটকের নিমিত্তে বর্ণিত এলাকা ও নদীর তীরসহ পার্শ্ববর্তী স্থানে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হলেও কোন পাচারকারী/তাদের সহযোগীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উক্ত স্থানে উল্লেখিত সময়ে অন্য কোন অসামরিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল না বিধায় ইয়াবা কারবারীদের সনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি।

তবে তাদের সনাক্ত করার জন্য অত্র ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উদ্ধারকৃত মালিকবিহীন ইয়াবাগুলো বর্তমানে ব্যাটালিয়ন সদরের ষ্টোরে জমা রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনী কার্যক্রম গ্রহণ পরবর্তীতে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।