দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

0
19

ফোর্সেস নিউজ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাই তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেছেন, সাংবাদিকতাটা আমরা নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখী চাই এবং দেশ ও জাতির প্রতি যেন কর্তব্য বোধ থেকে হয়, সেরকমই চাই। নীতিহীন সাংবাদিকতা কোন দেশের কল্যাণ আনতে পারে না। আপনারা নিশ্চয়ই সেই দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করবেন।

আজ রবিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুক্ত হন। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

ডিআরইউ’র রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

এদিকে ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, সহ-সভাপতি নুরুল কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে ইত্তেহাদ নামে একটি পত্রিকা বের হয়, ওই পত্রিকার সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। হাসেম সাহেব মূলত দায়িত্ব ছিলেন সে পত্রিকার। তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমাদের পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
যোগ করে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান হওয়ার পর যখন সবাই বাংলাদেশে চলে আসে তখন ইত্তেফাক বের করা হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অর্থে। ইত্তেফাক পত্রিকার দায়িত্বে ছিলেন তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া। সেখানেও কিন্তু বঙ্গবন্ধু ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের জন্য তিনি আর একটি পত্রিকা বের করেছিলেন ‘নতুন দিন’ নামে। সেই পত্রিকার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলার বাণী সাপ্তাহিক বের করেন তিনি। সেটা মার্শাল ল জারির পর গ্রেপ্তার এবং এরপর যখন তিনি মুক্তি পান।

সেই ১৯৬১ সালের দিকে তখন থেকে সাপ্তাহিক বাংলার বাণী করেন এভাবে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল। সেদিক থেকে আমি দাবি করতে পারি, আমিও বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য। সেভাবেই আমি আপনাদের দেখি।

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টাই হচ্ছে মানুষের জীবনটাকে আরও উন্নত করা । আজকে ৯৭ ভাগ মানুষের ঘরে আমরা আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়েছি। মুজিববর্ষে আমরা প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে আলো জ্বালাব। সেই বিদ্যুৎ সুবিধাটাও কিন্তু আমরা দিয়ে দিচ্ছি।’

‘পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এই যে আজ সকালেও এই দশটার সময় ৩৪ নম্বর স্প্যানটা বসলো। ইনশাল্লাহ, এটাও খুব দ্রুত শেষ হবে। আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করার অনেক কর্মসূচি নিয়েছিলাম। করোনাভাইরাসের জন্য জনসমাগম হয়, সেটা আমরা করতে পারিনি। আমরা ভার্চুয়ালি করেছি। আমরা ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। সেটাও আমাদের উদযাপন করতে হবে। স্বাধীনতা আমাদের মহৎ অর্জন এবং আমি এইটুকু বলবো, আমরা রজতজয়ন্তীর সময়ও সরকারে ছিলাম।

সুবর্ণজয়ন্তীর সময়ও আমরা সরকারে থেকে উদযাপন করতে পারব। সেটাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, এইটুক সুযোগ-সুবিধা আল্লাহ দিয়েছেন। বাংলাদেশটাকে আমরা যেন গড়ে তুলতে চাই এবং সেভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’

‘সেইক্ষেত্রে আপনাদের কাছে বলবো, আপনারা নিশ্চয়ই দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে আপনারা কাজ করবেন। কারণ এই রিপোর্টগুলো অনেক সহযোগিতা করে।’

‘আপনাদের রিপোর্ট পড়ে পড়ে বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে, সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেই রিপোর্ট দেখে অনেক অসহায় মানুষের যেমন দাঁড়াই, আবার অনেক অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও করতে পারি। অনেক দোষীকেও আমরা শাস্তি দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি। অনেক ঝুঁকি নিয়ে আপনারা অনেক সময় রিপোর্ট করেন। সেজন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এইটুকু অনুরোধ করবো- আপনারা যেমন ধন্যবাদ যোগ্য কাজও করেন কিন্তু আবার এমন রিপোর্ট করেন না, যেটা মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় বা মানুষ বিপথে যায়। সেদিকে আপনাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

জাতির পিতার বক্তব্যের কথা তুলে উল্লেখ করে বক্ততা শেষ করার ইচ্ছা পোষণ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেটা হচ্ছে, কথাটা অত্যন্ত বাস্তব যে সাংবাদিকতাটা আমরা নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখী চাই এবং দেশ ও জাতির প্রতি যেন কর্তব্য বোধ থেকে হয়, সে রকমই আমরা চাই।

নীতিহীন সাংবাদিকতা কোন দেশের কল্যাণ আনতে পারে না বরং ক্ষতি করে। হয়ত কিছু মানুষ অর্থ সম্পদের মালিক হতে পারে কিন্তু অর্থ-সম্পদ সবসময় কাজে লাগে না। এই করোনাভাইরাস হওয়ার কারণেই তো এটা আজকে প্রমাণিত যে কোটি কোটি টাকা থাকলেও অনেক সময় কাজে লাগে না। করোনাভাইরাস সারাবিশ্বব্যাপী এই একটা শিক্ষা দিয়ে গেছে মানুষকে। শুধু অর্থ সম্পদ বা নিজের স্বার্থপরতা কখনো কাউকে রক্ষা করতে পারে না। যা হোক, এই নীতিহীন সাংবাদিকতা যেন না হয়।’

এক্ষেত্রে জাতির পিতার আরেকটি কোটেশন উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘নীতিহীন রাজনীতি দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারে না। তেমনি নীতিহীন সাংবাদিকতা দেশের কোন কল্যাণ করতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

বঙ্গবন্ধুর আরেকটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেটি হল, ‘গণতন্ত্রের একটা নীতিমালা আছে, সাংবাদিকতার একটা নীতিমালা আছে। এ দুটো মনে রাখলে আমরা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারব।’

‘এটাই হচ্ছে সব থেকে মূল্যাবান কথা। তাই সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে চলতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা ২০০৮ নির্বাচনে দিন বদলের ডাক দিয়েছিলাম। রূপকল্প ঘোষণা করেছিলাম। এরপর আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নিই। ২০১০-২০২০, এখন আমরা ২০২১ থেকে ২০৪১ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যান করেছি। অর্থ্যাৎ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের জীবনটা যেন সুন্দর হয় উন্নত হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে পরিকল্পনার একটা কাঠামো রেখে যাচ্ছি। হ্যাঁ, সময়ের তাগিদে, প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বিজ্ঞানের প্রভাবে হয়ত সময় সময় এগুলো সময়োপযোগী করতে হবে কিন্তু এরি ভিত্তিতে আমরা যদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে আমাদের দেশের কাজ করি, এই দেশ এগিয়ে যাবে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। এদেশ ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে উঠবে। এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ কোনদিন ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজত জয়ন্তী উদযাপনের কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন এবং সকল সদস্যদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সবাইকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ‘কর্মের গৌরবে প্রাণের সৌরভে বিপুল শক্তি একসাথে শতপ্রাণে’ স্লোগানকে সামনে রেখে চার দিনব্যাপী রজতজয়ন্তী উদযাপনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ডিআরইউ।