কার্যকরভাবে “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০” পরিচালনায় তৎপর কোস্ট গার্ড

0
14

ফোর্সেস নিউজ : বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমকে লক্ষ্য রেখে ‘মা ইলিশ’ রক্ষার্থে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুমে দেশের নির্দিষ্ট উপকূলীয় এলাকায় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গত ১৪ অক্টোবর ২০২০ থেকে ০৪ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সর্বমোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন এলাকাসমূহে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধসহ সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং কেনা বেচা নিষিদ্ধ করা হয়।

কোস্ট গার্ড কার্যকরভাবে “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০” পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করে। কোস্ট গার্ডের দায়িত্বাধীন এলাকায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হয়।

এছাড়াও “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০” সফল করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমুহের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে একক ও যৌথভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে।

এসময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ০৫ টি ঘাঁটি, ২৩ টি ছোট-বড় জাহাজ এবং ৫৮ টি স্থায়ী ও ০৪ টি অস্থায়ী কন্টিনজেন্ট এর সদস্যগন শতাধিক কোস্ট গার্ড বোট ও ভাড়াকৃত সিভিল বোটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নদীতে সর্বদা টহলে নিয়োজিত ছিল।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনা করে গত ২২ দিনে সর্বমোট ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ জাল, ২০৪ টি ইঞ্জিন চালিত কাঠের বোট ও ৮ হাজার ৪৬ কেজি অবৈধভাবে আহরিত মা-ইলিশ এবং ৫৬৮ জন জেলেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। পরবর্তীতে জব্দকৃত জালগুলোকে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিম ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও আটককৃত জেলেদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান ও জরিমানা করা হয়।

কোস্ট গার্ড এর এখতিয়ারভূক্ত এলাকাসমূহে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ, জাটকা নিধন ও মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।