পুলিশের আইজিপি হিসেবে এক বছর পূর্তিতে ড. বেনজীর আহমেদ এর প্রতি শুভকামনা

0
27

ফোর্সেস নিউজ : ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) চাকরি জীবনের শুরু থেকেই একজন ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তাঁর বিচক্ষণতা, সৃষ্টিশীলতা ও দূরদর্শীতাপূর্ণ নেতৃত্ব বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে অনুসরণীয় স্থানে নিয়ে গেছে। পেশাদারিত্বে তিনি গুণাবলীর উৎকর্ষে, তার স্বীয় প্রজ্ঞার গুনে পুলিশ বাহিনীর একজন আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মানুষের দোরগোঁড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে পুলিশের সকল সদস্যের প্রতি পাঁচটি নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। নির্দেশনাগুলো হলো- বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশের সেবা জনগণের দ্বারে পৌছে দেয়া, দেশের মানুষকে নির্মোহভাবে ভালবেসে নিপীড়ন না করে আইনী সক্ষমতা কাজে লাগানো, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, পুলিশের দূর্নীতি মুক্ত থাকা, পুলিশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাঁর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

বাংলাদেশে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জনসেবায় এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশ। যখন করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর থাবায় মানুষ অসহায় হয়ে মৃত্যুবরণ করছিল। যখন আতংকে মানুষ দিশেহারা হয়ে মানবতাবোধ হারিয়ে ফেলেছিল। এমনকি সন্তান তার পিতার মৃতদেহ সৎকারে অনীহা প্রকাশের মতো ঘটনাও সারা দেশের মানুষকে হতবাক করেছিল। ঠিক তখনই সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ড. বেনজীর আহমেদ।

বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে এগিয়ে আসতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি । অসহায় মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়াসহ করোনায় আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা এবং নিহতদের দাফনের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। মানবতার সেবক হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসে কাজ করে যাচ্ছে। করোনা যুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশে ৮৯ জন গর্বিত সদস্য নিজ জীবন উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০১৮০ জন পুলিশ সদস্য।

করোনা যুদ্ধে সম্মুখ সারির যোদ্ধা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে আধুনিকায়নসহ দ্রুততর সময়ের মধ্যে করোনা টেস্টের জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপন ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করেন আইজিপি। এছাড়াও রাজধানীতে বেসরকারি ইমপালস হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ভাড়া করে করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

স্মার্ট ও আধুনিক পুলিশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের কর্তব্য পালনকালে উন্নত দেশের পুলিশের মত হ্যান্ডস ফ্রি রাখতে শর্ট আর্মসসহ ট্যাকটিক্যাল বেল্টের প্রবর্তন করেন তিনি। ভার্চুয়াল জগতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিকসহ নানাভাবে সাইবার অপরাধের শিকার নারীদের সহায়তার জন্য ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সেবা চালু ও উগ্রবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক ওভিসি ও টিভিসি লঞ্চিং করেন তিনি।

পুলিশের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে আধুনিক করে সাজিয়েছেন আইজিপি। পুলিশ পরিবারের সন্তানদের ভালমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ০৮টি বিভাগীয় শহরে ক্যাডেট কলেজের আদলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পুলিশের মেধাবী সন্তানদের পড়াশুনায় আরো অনুপ্রাণিত করতে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন। এছাড়াও উত্তরা দিয়াবাড়ী আঞ্চলিক পুলিশ লাইন্সের নতুন ব্যারাক উদ্বোধন, উত্তরায় পলওয়েল কারনেশন শপিং সেন্টারের সংস্কার ও সৌন্দর্য্যবর্ধন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ফোর্সের আধুনিক মেস ও ক্যান্টিন নির্মাণ করেন।

কোয়ালিটি সার্ভিস নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বিভিন্ন কোর্স ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন আইজিপি। থানাকে মানুষের ভরসাস্থল করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছর পূর্তিতে আইজিপি মহোদয় এর বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের কল্যাণের জন্য দূরপাল্লার যাত্রায় চালু হতে যাচ্ছে “বাংলাদেশ পুলিশ বাস সার্ভিস”। হ্রাসকৃত ভাড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের সকল অফিসার, ফোর্স ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ এই বাস সেবাটি নিতে পারবেন।

এছাড়াও তিনি আইজিপি হিসেবে যোগদানের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি জঙ্গি দমনের উপর সর্বোচ্চ জোর প্রদান করেছেন। নাশকতা ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগনের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচারনামূলক কার্যক্রম ও গ্রহন করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য বিট পুলিশিং এর উপর জোর প্রদান করেন।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) এর সুচিন্তিত পরিকল্পনা, সুনির্দেশনা ও গতিশীল নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে সকলের দৃঢ় বিশ্বাস।